টপ

কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে শুরু হতে চলেছে নদী বাঁচাও প্রকল্প। নদী পরিদর্শনে এসে এমনটাই জানালেন পরিবেশ বিদ

মালদাঃ বিভিন্ন জেলায় নদী বাঁচাও প্রকল্পের উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।এক কালীন ঐতিহ্যবাহী হিসেবে পরিচিত বেশ কিছু নদী আজ প্রায় লুপ্ত হয়ে গেছে। সেই সমস্ত নদীর প্রাণ ফেরিয়ে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে নদী বাঁচাও প্রকল্পের। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কিছু দিন আগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। তাতে দেশের দূষিত নদীর মধ্যে মহানন্দা নদীরও নাম ছিল। এদিন মহানন্দা নদী পরিদর্শনে আসেন পরিবেশ বিদ ও নদী বিশেষজ্ঞ তুহিন শুভ্র মণ্ডল। তিনি জানান নদী প্রায় ডাস্টবিনে পরিণত হয়ে পড়েছে। শহরের সমস্ত নোংরা আবর্জনা নদীতে এসে মিশেছে ফলে নদী তার নাব্যতা হাড়িয়ে ফেলেছে। স্থানীয় পৌরসভা, রাজ্যের সেচমন্ত্রী, স্থানীয় মানুষদের নিয়ে বাঁচাতে হতে নদীকে।

            কারন এই নদীর মাধ্যমে বহু মানুষের জীবিকা চলে। মৎস্যজীবীরা প্রত্যেকেই নদীর উপর নির্ভরশীল। আগে মহানন্দা নদীতে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যেত। এখন তা লুপ্ত প্রায়।এই নদীতে আগে ইলিশ মাছ পাওয়া যেত কিন্তু এখন আর পাওয়া যায় না। কারন নদীতে নোংরা আবর্জনা ফেলার কারনে নদীর জল শুকিয়ে গেছে।

            মহানন্দা নদী বাঁচাও নিয়ে সরকারি ভবনে তিন জেলার সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে আলোচনা হয় ৫টি জেলা রয়েছে মালদা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর।জৈববৈচিত্র কীভাবে বাঁচানো যায় বা সংরক্ষণ করা যায় তা নিয়ে। জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মহানন্দা বাঁচাও কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে বলে জানান পরিবেশ বিদ তুহিন শুভ্র মণ্ডল।

 

উত্তর দিনাজপুরঃ দক্ষিন দিনাজপুর জেলার আত্রেয়ী নদী ও পূর্নভবা, টাঙ্গন, মহানন্দা নদীর পর বাংলাদেশ থেকে বয়ে আসা শ্রীমতি নদী যাকে কালিয়াগঞ্জের মানুষের কাছে চিরা মতি নদী নামে পরিচিত। এক সময়ে এই নদীর ঐতিয্য ছিল সময়ের সাথে পলি পড়ার সাথে সাথে নদী দূষণের ফলে নিজের নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে নদীটি। সেই নদীকে বাচিয়ে তুলতে সচেষ্ট হলেন দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা এবং পরিবেশ প্রেমী ও নদী বিশেষজ্ঞ তুহিন শুভ্র মন্ডল। তুহিন বাবু দক্ষিন দিনাজপুর জেলার  আত্রেয়ী ও পুর্নভবা, টাঙ্গন, মহানন্দা নদী গুলি নিয়ে জনমত সংগঠিত করে নদী বাচানোর চেষ্টা অনেক আগেই শুরু করেছেন। এবারে তিনি উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ দিয়ে বাংলাদেশ থেকে আসা শ্রীমতি নদীর প্রান ফেড়ানোর চেষ্টায় সামিল হলেন। এই প্রচেষ্টা সফল করতে শুক্রবার দুপুরে কালিয়াগঞ্জের পৌরপ্রধান কার্তিক পালের সাথে একদফা বৈঠক এবং শহর এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্রীমতি নদীর অবস্থান খতিয়ে দেখলেন তুহিন বাবু। এদিন দুপুরে নদীর পরিদর্শনের সাথে সাথে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্যসংগ্রহ করেন তিনি। 

            তুনিহ বাবু জানান, আত্রেয়ী ও পুর্নভবা, টাঙ্গন, মহানন্দা নদী কালিয়াগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্রীমতির নদীর অবস্থার খুব খারাপ। তিনি শুক্রবার কালিয়াগঞ্জের পৌর প্রধানের সাথে বৈঠক করেন এবং শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর অবস্থা ঘুড়ে দেখেন। নদী দূষণ ও পলি পরে নিজের নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে শ্রীমতি নদী। নদীতে জল নেই বললেই চলে নদীর চার পাশ দিয়ে চলছে চাষাবাদ। এক সময়ে এই নদীর একটি ঐতিয্য ছিল। সেই কারণে এই নদীকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচী নেওয়া হবে,সাধারন মানুষদের সচেতন করতে হবে। সাধারন মানুষদের সাথে সাথে নদীটিকে পুনরায় বাঁচিয়ে তুলতে ছাত্র ছাত্রীদের এগিয়ে আসতে হবে। একি সাথে দেশের প্রধান মন্ত্রী রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রীর কাছে ভারত - বাংলাদেশ সীমান্ত জুরে যে নদী গুলি রয়েছে তার কথা তিনি তুলে ধরছেন।তিনি চান আত্রেয়ী ও পুর্নভবা , টাঙ্গন, মহানন্দা নদীর সাথে সাথে শ্রীমতি নদীটিকেও যুক্ত করা হোক সে নিয়ে তিনি সচেষ্ট হবেন।

            এদিকে কালিয়াগঞ্জের পৌর প্রধান কার্তিক পাল জানান, দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা এবং পরিবেশ প্রেমী ও নদী বিশেষজ্ঞ তুহিন শুভ্র মণ্ডল, আত্রেয়ী ও পুর্নভবা , টাঙ্গন, মহানন্দা নদী নিয়ে কাজ করেছেন। এবারে তিনি কালিয়াগঞ্জের শ্রীমতি নদী নিয়ে কাজ করতে চান। তা নিয়ে শুক্রবার তিনি নদীর অবস্থা কি পর্যায়ে রয়েছে তা নিয়ে বৈঠক ও নদী পরিদর্শন করেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাম আমলে নদী সংস্কার নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন কিন্তু বামপন্থিরা বিরোধীতা করায় যেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আবার নদী সংস্কার যাতে হয় সেই কারণে পৌরসভা তার সাথে আছে তিনি কালিয়াগঞ্জ ব্লক প্রশাসনকে জানাবেন যাতে তার এগিয়ে আসে। ব্লক থেকে বিভিন্ন সময়ে ১০০ দিনের কাজ হয়। সেই কাজের মধ্য দিয়ে নদী সংস্কার কাজের যদি কিছু করা যায় সে নিয়ে তিনি বিডওকে জানান।যাতে এই বুজে জাওয়া নদী সংস্কার করা যায় তাহলে নদীটি নিজের জীবন ফিরে পাবে সে বিষয়ে বিডিও উদ্যোগ নিবেন বলে জানিয়েছেন।